ভাইরাল শিল্পীদের জীবনচক্র

Share with friends
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Ranu Mandol Then VS Now

ভাইরাল শিল্পীদের জীবনচক্র – ভাইরাল শিল্পীদের জীবনচক্রে ধাপ তিনটি। তার আগে একটু ভাইরাল শব্দটাকে নেড়ে চেড়ে দেখা যাক। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন আর ভাইরাল শব্দটি শোনেননি। এমন লোক হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবেনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার ভিডিও আপলোড হচ্ছে । এর মধ্যে সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা, অপরাধ, এমনকি হাস্যরসাত্মক ভিডিও যেমন থাকে। পাশাপাশি থাকে বিভিন্ন আর্ট ফর্ম এর ভিডিও ও। কেউ হয়তো তার গান আপলোড করছে, কেউ তার অভিনয় এর ভিডিও করে আপলোড করছে। কিন্তু এগুলোর মধ্যে যে ভিডিও গুলো ব্যাপক আকারে সবাই শেয়ার করছে , কমেন্ট করছে। সেটাকেই আমরা ভাইরাল বলে থাকি। চলুন তাহলে দেখা যাক ভাইরাল শিল্পীদের জীবন চক্র কেমন হয় ।

প্রথম ধাপ –

ভাইরাল শিল্পীদের জীবনচক্রের প্রথম ধাপটা বেশ আনন্দ দায়ক। এই ধাপে তার আপলোড করা ভিডিওটি রাতারাতি ছড়িয়ে পরে। সাথে থাকে বিভিন্ন পেজের ” পুরো লতা মুঙ্গেশকর, একদম অরিজিৎ সিং এর গলা, না শুনলে মিস ” এমন সব চটকদার ক্যাপশন দিয়ে ভাইরাল করার প্রচেষ্টা। এতে করে রাতারাতি সবাই শেয়ার করে। এই ধাপে সবাই বেশ খুশি থাকে। পেজগুলো লাইক শেয়ার পেয়ে খুশি , শ্রোতারা গান শুনে খুশি , ভাইরাল শিল্পী রাতারাতি এতো জনপ্রিয়তা পেয়ে অনেক বেশি খুশি। বিভিন্ন চ্যানেল তাকে নিয়ে ইন্টারভিউ, ভিডিও করে। কারণ তাকে নিয়ে কন্টেন্ট বানালেই লাখ লক্ষ ভিউ। অনেক ক্ষেত্রে তার মধ্যে অহংকার দেখা দেয়। নিজেকে সে বিশাল কিছু ভাবতে শুরু করে। কিন্তু এই ধাপ খুব বেশিদিন টেকেনা।

Singer Mainul Ahsan Noble

দ্বিতীয় ধাপ –

এই ধাপটা শ্রোতার জন্য বিরক্তিকর আর ভাইরাল শিল্পীর জন্য কষ্টকর। বারবার ভাইরাল ভিডিওর গানটি শুনতে শুনতে শ্রোতা হয়ত নতুন কিছু শুনতে চায়। কিন্তু না চাইতেও যখন টাইমলাইনে ওই একই ভিডিও ঘোরাঘুরি করে। তখন শ্রোতারা বিরক্ত হয়ে যায়। যেই শ্রোতারা তাকে ভাইরাল করেছিল, তারাই তাকে ” অটোটিউন , বাজে গায়, ফালতু লাগে ” এমন আরো হাজারো নেগেটিভ মন্তব্য করে সোশ্যাল মিডিয়া ভাসিয়ে ফেলে। এই পর্যায়ে ভাইরাল শিল্পী অবাক হয়। অনেক ক্ষেত্রেই তার ওভার কনফিডেন্স কিংবা অহংকার থেকে করা মন্তব্য এই বাড়ন্ত নেগেটিভিটির সাথে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।

Singer Mahtim Shakib

তৃতীয় ধাপ

এই ধাপে শিল্পী সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ভাবে অপদস্ত , ট্রল এর শিকার হয়ে হারিয়ে যায়। একটা সময় তাদেরকে আর খুঁজে পাওয়া যায়না সেভাবে। এই শেষ ধাপে এসে যাদের প্রকৃত অর্থে মেধা আছে , গান এর প্রতি ভালোবাসা আছে। তারা ঠিকই টিকে থাকে , অনবরত কাজ করার মাধ্যমে।

Singer Abir Biswas

ভাইরাল হওয়া দোষের কিছু নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যানেই অনেক প্রতিভাবান নতুন শিল্পী পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু একটা ব্যাপার চিরন্তন সত্য ” যেই জিনিস যত দ্রুত বেড়ে ওঠে , তা নেমেও যায় ততই দ্রুত ” তাই গান বাজনা বা যেকোনো আর্ট ফর্মের ক্ষেত্রেই সাধনার বিকল্প নেই। ভাইরাল হলে হতে রাতারাতি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় সত্যি, কিন্তু তাদের মনের মধ্যে স্থায়ী ভাবে জায়গা করে নেয়াটা এতো সহজ নয়।

Comments are closed here.

error: Content is protected !!